বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: সারাদেশে বদলী বাণিজ্য নিয়ে চলা ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই এবার ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার চুক্তিতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের (সিটিভি) কন্ট্রোলার বা প্রোগ্রাম ম্যানেজার পদায়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি সম্মতিপত্র ও স্বাক্ষর করা একাধিক ব্ল্যাঙ্ক চেকের কপি দৈনিক সকালের সময়ের হাতে এসেছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ করছেন পদায়নকৃত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের (সিটিভি) প্রোগ্রাম ম্যানেজারের পদে যোগদান করার জন্য একাধিক ব্যক্তির আগ্রহ ছিল। কিন্তু টাকা দেওয়া দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থার উপ বার্তা নিয়ন্ত্রক ২৫তম বিসিএস ক্যাডার জাকির হোসেন। চুক্তি মোতাবেক গত বছরের (২০২৫) ৬ অক্টোবর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ শরিফুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কন্ট্রোলার/ প্রোগ্রাম ম্যানেজার পদে বদলী করা হয়। সেই আদেশ অনুযায়ী ৮ অক্টোবর বেতারের কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থা থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ৯ অক্টোবর সিটিভিতে যোগদান করেন।
যোগদানের পরের মাসে অর্থাৎ ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সম্মতি পত্রে লিখেছেন, ”আমার বিশেষ প্রয়োজনে ২৩ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করছি (আমি ২০ কোটি টাকা গ্রহণ করিব) এবং ১৮ (আঠার) মাস পর লভ্যাংশসহ ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কাজের মাধ্যমে/নগদ ফেরত দিব। হাউজের নিয়মানুযায়ী আমি নিজের চেক দিয়ে ডিড এগ্রিমেন্ট করিয়া আমার প্রয়োজনীয় স্থানে নিজে রিসিভ করিব। বি. দ্র. আমি মো. জাকির হোসেন, আমার ঋণ গ্রহণে মধ্যস্থকারী হিসাবে মো. সাইফুল করীম এর এর মাধ্যমে আমার সমস্ত ঋণ গ্রহণ ও প্রদান এর কাজ সম্পন্ন করিব। সম্মতিক্রমে মো. জাকির হোসেন, বিসিএস (তথ্য), কন্ট্রোলার/প্রোগ্রাম ম্যানেজার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্র।”
এই সম্মতিপত্রের সাথে মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত কয়েকটি ব্ল্যাঙ্ক ( নাম ও টাকার পরমিান বিহীন) চেক দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (বর্তমানে রংপুর বেতারে বদলী) মো. জাকির হোসেন সম্মতি পত্রে স্বাক্ষরের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ”এমন কোন সম্মতি পত্রে আমি স্বাক্ষর করিনি। কেউ আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এমনটি করেছে। এবিষয়ে আমি আইনগত সহায়তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরী করেছি। আর আমি এখন চট্টগ্রামে নেই, রংপুর বেতার কেন্দ্রে বদলী করা হয়েছে।” ব্ল্যাঙ্ক চেকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেকগুলো ব্যাংকে ’পেমেন্ট স্টপ’ করা হয়েছে।” এধরণের জালিয়াতি কে বা কারা করেছে তা জানতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো জানা যায়নি, তবে তদন্ত চলছে।
এসব বিষয়ে অবগত আছেন কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. ইমাম হোসেন কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অপর একটি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট আছে, যারা নানা রকম অনৈতিক বদলী বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তারা নানাভাবে প্রলোভনের মাধ্যমে বদলীর জন্য তদবীর করেন। কখনো হয় আবার কখনো হয় না। আর যদি হয়ে যায় তাহলে মোটা অংকের টাকা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এসব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই বিব্রত বোধ করছেন।
মন্তব্য করুন