ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের তারাকান্দার সাংবাদিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাহারুল ইসলামের নাতি পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং ব্যক্তিস্বার্থে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরে ঘুরে তদবির বাণিজ্যে জড়িত থাকতেন। এছাড়া প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নামসর্বস্ব একটি পত্রিকার নামে সরকারি বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোরস্থানের উন্নয়নের জন্য এডিবির বরাদ্দকৃত মাটি নিজ বাড়ির ভরাট কাজে ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন নীরব থাকলেও পরবর্তীতে নিজেকে বিএনপিপন্থি সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, উপজেলা পরিষদের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), যিনি ৫ আগস্টের আগ থেকেও কর্মরত রয়েছেন, তার সহযোগিতায় মামলা বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় কারও সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি পুলিশি প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে হয়রানির চেষ্টা করেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়াপ্রবাসী শেখ হাসিনা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন রনুর সঙ্গে যোগাযোগ ও লবিংয়ের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সোহেল রানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে, তাহলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন