প্রকাশ্যে উৎকোচ দাবি ও মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ
• ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
• দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ: মামুন
টাকা দিলে নিমেষেই মেলে দাপ্তরিক কাজ, আর দাবিকৃত অর্থ না দিলেই ফাইলের ওপর পড়ে থাকে ধুলার আস্তরণ—এমনই অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের আকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার সরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে এখন অনিয়ম, হয়রানি আর ঘুষ বাণিজ্যই যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হাশেম আলীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ দাবি, দর-কষাকষি এবং ফাইল আটকে রেখে নিরীহ মানুষকে জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা।
‘টাকা দিলে কাজ, নইলে শুধুই তারিখ’
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জমির নামজারি (মিউটেশন), ডিসিআর উত্তোলন, খতিয়ান যাচাই কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের মতো সাধারণ নাগরিক সেবা নিতে এসে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তৃণমূলের মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ নিষ্পত্তির বদলে মাসের পর মাস সেবাগ্রহীতাদের পেছনে ঘোরানো হয়। এই সুযোগে অফিস সহায়ক হাশেম আলী সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের নানা কাগজপত্রে ‘ত্রুটি’র ভয় দেখিয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করেন। তার চাহিদামতো বাড়তি টাকা না দিলে সাধারণ একটি ফাইলের জন্যও বারবার অফিসে এসে শূন্য হাতে ফিরতে হয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষকে।
তথ্যের অস্বচ্ছতায় সক্রিয় সিন্ডিকেট
সরেজমিনে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অফিসে কোন সেবার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি কত এবং সেবা পেতে ঠিক কতদিন সময় লাগার কথা—তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য বা সিটিজেন চার্টার সাধারণের চোখে পড়ার মতো জায়গায় টানানো থাকে না। তথ্যের এই অস্বচ্ছতাকে পুঁজি করে অফিস সহকারী ও স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতারা দাপ্তরিক জটিলতা এড়াতে বাধ্য হয়ে এই চক্রের হাতে অতিরিক্ত টাকা তুলে দিচ্ছেন। যারা এই প্রকাশ্য অনিয়মের প্রতিবাদ করতে যান, তাদের ফাইল আরও জটিল করে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে মানসিক ও আর্থিক চাপে ফেলা হয় বলে জানান একাধিক ভুক্তভোগী।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি
একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এমন লাগামহীন দৌরাত্ম্য ও ফাইল আটকে রাখার সাহস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহির অভাবেই সাধারণ নাগরিকরা এভাবে দাপ্তরিক দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। অবিলম্বে আকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি সেবামূল্য তালিকা প্রকাশ্যে টাঙানো এবং সেবা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক হাশেম আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তপূর্বক কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন