স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ: ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমিও রেহাই পেল না প্রতারক চক্রের হাত থেকে। জটিলতা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ময়মনসিংহ শহরের ঐতিহাসিক আমলাপাড়া জামে মসজিদের নগদ ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক কথিত দালালের বিরুদ্ধে। পাওনা অর্থ ফেরত চাইতে গেলে মসজিদ কমিটিকে উল্টো হুমকি-ধমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জাবেদ বাবু (৪৫)। তিনি ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৫–৬ মাস আগে আমলাপাড়া জামে মসজিদের জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে মসজিদ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন জাবেদ বাবু। প্রশাসনিক ও আইনি কাজ দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে এককালীন নগদ ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
টাকা গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় অভিযুক্তের নানা কূটকৌশল ও টালবাহানা। বারবার সময় নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি।
জানা গেছে, অভিযুক্ত জাবেদ বাবু মূলত একজন চিহ্নিত দালাল প্রকৃতির লোক। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তদবিরের নামে প্রতারণা করাই তার মূল পেশা। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস), সিটি কর্পোরেশন ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও অভিযোগের রেকর্ড রয়েছে।
সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে আমলাপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পাওনা টাকার জন্য জাবেদ বাবুর মুখোমুখি হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও গুরুতর ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মসজিদের পবিত্র আমানত রক্ষা ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সানকিপাড়ার বাসিন্দা মোঃ রেজাইল করিম কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন বলে জানা গেছে। মসজিদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎকৃত ৪ লাখ টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্যতা মিললে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন