নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা ও বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরায় পেশাদার সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সম্প্রতি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এরপরই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়েছে স্থানীয়ভাবে ‘দালাল চক্রের সদস্য’ হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি। নিজেকে ‘নেত্রবাংলা ডটকম’ নামের একটি নিবন্ধনহীন ও বিতর্কিত অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক ও প্রকাশক দাবি করা পিয়াস আহমদ নামের ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট থানায় দালালি ও তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত পিয়াস আহমদ। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে সে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। সম্প্রতি ঐ ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির ফিরিস্তি সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এই চক্রটি।
পেশাদার সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে এবং অপকর্ম ধামাচাপা দিতে পিয়াস আহমদ সাংবাদিকদের সরাসরি হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের অপকর্ম ও থানার দালালি আড়াল করতেই সে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে এবং রাতারাতি ভূঁইফোড় এক অনলাইনের ‘সম্পাদক ও প্রকাশক’ বনে গেছে। প্রকৃত সাংবাদিকতার কোনো নিয়ম নীতি না মেনে এই ধরনের ভূঁইফোড় পোর্টাল খুলে প্রশাসনের দালালি ও সাংবাদিকদের জিম্মি করার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর যখন কোনো সাধারণ দালাল এসে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়, তখন তা পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চরম লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ ও সৎ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুত পিয়াস আহমদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তথাকথিত ওই অনলাইনের বৈধতা তদন্ত করে অপসাংবাদিকতা ও দালালি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদটি প্রকাশের আগে জিডি বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের কোনো তথ্য থাকলে (যেমন: তারিখ, ডায়েরি নম্বর) যুক্ত করে নিতে পারেন, এতে খবরের গুরুত্ব আরও বাড়বে।
মন্তব্য করুন