নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লিফটের রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম, অবহেলা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ যে গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধে রয়েছে, সেই বিভাগেরই দুই প্রকৌশলীকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
গত সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের ১১ নম্বর লিফটের কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সৃষ্ট ধোঁয়া ও আতঙ্কে পদদলিত হয়ে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঘটনার পর মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত দাপ্তরিক আদেশ অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, কেন্দুয়া সাব-ডিভিশনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) মাজেদুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী এবং সদস্য সচিব হিসেবে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন খান। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে হাসপাতালের লিফট রক্ষণাবেক্ষণে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাঈমা এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি, ভুয়া ভাউচার, অকেজো নিরাপত্তা ব্যবস্থা (এআরডি), নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার এবং তদারকির ঘাটতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে গণপূর্তের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে অভিযোগের মুখে থাকা বিভাগের কর্মকর্তাদের তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। স্থানীয় নাগরিক নেতা আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, “যাদের ব্যর্থতা বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই তদন্ত কমিটিতে রাখা হলে সেই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”
তবে এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস বলেন, “কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমাদের ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত এখানে নেই। কমিটির দায়িত্ব হলো ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, গণপূর্ত বিভাগের ভূমিকা নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন