আল্লামা শাহ আহছানুজ্জামান (রহ.) প্রথম ইসালে ছাওয়াব মাহফিলে বক্তারা বলেন- যারা ধর্মকে হৃদয়ে ধারণ করে না তারাই ধর্মের অপব্যাবহারে লিপ্ত যারা ধর্মকে হৃদয়ে ধারণ করে না, তারাই ধর্মের অপব্যাবহারে লিপ্ত। ধর্মের লেবাসে অন্যের সম্পদ হরণ, যিনাব্যভিচার, মিথ্যাচারের মাধ্যমে অন্যের চরিত্র হরণের ঘটনাগুলো ধর্মের অপব্যাবহার। ইসলামকে এরা কলবে ধারণ করে না। অথচ ইসলামকে আল্লামা শাহ্ মুহাম্মদ আহ্ছানুজ্জামান রহমাতুল্লাহি আলাইহির মত আউলিয়ায়ে কেরাম মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছে। তারা পোষাকি ধার্মিক বানায় নি। তাই তাঁরা এদেশের মানুষের লোকজ সংস্কৃতিকে উপেক্ষা না করে শিরকমুক্ত করেছেন। ধর্মকে চাপিয়ে না দিয়ে ধর্মের মর্মবাণী হৃদয়ে ধারণ করতে শিখিয়েছে। মানবিক মানুষ হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আল্লামা শাহ্ মুহাম্মদ আহ্ছানুজ্জামান রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহর ইবাদাতের সাথে মানবসেবার হক নিজেরা আদায়ের পাশাপাশি অন্যকেও পালন করার শিক্ষা দিয়েছেন সারা জীবন।
তাঁদের মত আউলিয়ায়ে কেরাম এই অঞ্চলে ইসলামের বসন্ত আর সম্প্রীতিবোধের অনন্য নজির স্থাপন করে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়েছেন। অথচ পোষাকি ধার্মিকরাই ইসলামের নাম ধারণ করে অন্যের সম্পদ হরণ; জুলুমনির্যাতন, নীপিড়ন, ব্যভিচারকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করেছে। এরা নিজেদের অপরাধকে জায়েজ করতে নবিরসুলদের চরিত্র হননসহ কুরআনের অপব্যাখ্যাও করতে ছাড়ে না! যারা ফলে অন্যধর্মের মানুষ শুধু নয় খোদ মুসলমানরাও লজ্জিত। মশুরীখোলা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ত্রয়োদশ শতাব্দীর মহান মুজাদ্দেদ হযরত কেবলা শাহ্ আহসানুল্লাহ (রহঃ) এর সুযোগ্য নাতি কুতুবে জামান, দরবার শরীফের তৃতীয় গদ্দিনেসীন পীর সাহেব ও ওয়াকফ এষ্টেটের ৮ম মোতাওয়াল্লী আল্লামা শাহ্ মুহাম্মদ আহ্ছানুজ্জামান রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর ১ম ইসালে ছাওয়াব মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মশুরীখোলা দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব ও মশুরীখোলা আন্জুমানে আহসানিয়া বাংলাদেশ নায়েবে আমির আল্লামা শাহ্ মুহাম্মদ আহ্ছানুজ্জামান রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর ছোট সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ্ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেসীনের সভাপতি আলহাজ এএমএম বাহাউদ্দীন, মহাসচিব আল্লামা অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমাদ মোমতাজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান, হযরত শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.) কমপ্লেক্সের সভাপতি শাহ মুহাম্মদ মোহসেনুজ্জামান, বেতাগী আস্তানা শরীফের পীর সাহেব গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, আমেরিকায় রহমাতুল্লিল আমিন মসজিদের খতিব আল্লামা ড.সাইফুল আযম বাবর আল আযহারী, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদরাসার সেক্রেটারী প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আবুল বাশার, সহ দেশের প্রখ্যাত ওলামা-মাশায়েখে, বিশিষ্টজন, দরবারের খলিফাগণ, ভক্ত-আশেকান এবং কমপ্লেক্সের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে পীর সাহেব বলেন, উন্নয়ন ও সুশাসনের সমতা চায় জনগণ। তাই সরকারকে উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন ও দূর্নীতির বিষয়ে জিরোটলারেন্স থাকতে হবে। সরকার, প্রশাসন ও জনগণের মাঝে দূরত্ব ঘুচাতে হবে। নতুবা নিকট অতীতের মত জনরোষ তৈরি হবে। দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়তে হবে। বিশাল যুব সমাজকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রনোদনা বাড়াতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল রাখতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তবেই সরকার জনবান্ধব সরকারে পরিণত হতে পারবে। তিনি আরো বলেন, আল্লামা শাহ্ মুহাম্মদ আহ্ছানুজ্জামান রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ৭৪ বছর জীবন এদেশের মানুষে ও ইসলামের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। তিনি মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, এতিমখানাসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান করেছেন।
মানুষের দুঃখ লাঘব ছিলো তাঁর ধ্যান-খেয়াল। যে কোন দূর্যোগে তিনি সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বিশেষত ইসলামী শিক্ষার উন্নয়ন ও সমাজ সংস্কারের তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি তাঁর পিতামহ হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহির পদাঙ্ক অনুসরণ করে মানব কল্যাণে মশুরীখোলা দরবারের দুই শত বছরে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে গেছেন। আল্লামা শাহ্ মুহাম্মদ আহ্ছানুজ্জামান রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর ১ম ইসালে ছাওয়াব মাহফিল উপলক্ষে দরবার শরীফে সকল থেকে খতমে কোরআন সহ বিভিন্ন খতম পাঠ, বাদ আসর থেকে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদনাত, ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আযকার আয়োজন করা হয়। মশুরীখোলা দরবার শরীফের বতর্মান গদ্দীনেশিন পীর সাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ্ মোহাম্মাদ সাইফুজ্জামান (মা.জি.আ.) মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত মধ্যে দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজন সমাপ্ত হয়।
মন্তব্য করুন