বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ষ্টান্ডার্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ” দি সিভিল ইন্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ব্যপস্থাপনা পরিচালক ইন্জিনিয়ার মো: আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। দখল প্রক্রিয়া নিজের আয়ত্তে রাখতে অবলম্বন করেছে একাধিক কৌশলও। এদিকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিজেরাই বিবাদীর দলিল বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করে, পরবর্তীতে আবার নিজেরাই আদালতে স্বীকারোক্তি দেয় সেই দলিলের বিষয়ে তাদের কোন আপত্তি নেই । আদালত থেকে বের হয়ে গেলেও থেমেই প্রতিষ্ঠানটির এমডির কুটকৌশল। অবৈধ ভাবে দখলে রেখেছে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ৪৬ শতাংশ জমি, যার বর্তমান বাজার মুল্য নুন্যতম ৫ কোটি টাকার উপরে । আদালতে সুবিধা করতে না পেরে জমির মালিকদের বিভিন্ন প্রশাসনের সহযোগিতায় হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে ।
মুন্সিগঞ্জ দেওয়ানী আদালতে দি সিভিল ইন্জিনিয়ার্স লিমিটেডের পক্ষে একটি মামলার আর্জিতে পরিস্কার ভাবে ফুটে উঠেছে তাদের জমি দখলের অভিনব পদ্ধতি । দুতরফা দীর্ঘ চার বছর মামলা চলেছে, বাদী পক্ষের স্বাক্ষ্য দেয়াও শেষ। রায় ঘোষণার আগ মুহূর্তে মামলায় হেরে যাচেছ তা অনেকটাই নিশ্চিত, ঠিক সেই মুহুর্তে নিজেরাই মামলা প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে আদালতে। তবে যেই দলিল বাতিল চেয়ে আর্জিতে উল্লেখ করে, সেই দলিল নিয়ে তাদের কোন আপত্তি নেই মর্মে আবেদন করেই মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাদী নিজেই ।।
এদিকে মামলার আর্জি ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গজারিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, মুন্সিগঞ্জ, দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ৯৯/ ২০১৭ এর বাদী দি সিভিল ইন্জিনিয়ার্স লিমিটেডের পক্ষে ইন্জিনিয়ার মো: আতিকুর রহমান, ৬৯ মহাখালী বা/ এ,থানা গুলশান জেলা ঢাকা । মুল বিবাদী করা হয়েছে ভুট্টাে দাস, পিতা মৃত মদন দাস, সন্তোষ কুমার বিশ্বাস পিতা মৃত : ফুটমোহন ওরফে নন্দ লাল বিশ্বাস, কমল সরকার পিতা মৃত নবদ্বীপ চন্দ্র সরকার এবং তাদের পক্ষে নিযুক্তীয় আমমোক্তার হুমায়ুন কবির পিতা ধনু মিয়া সর্ব সাং ছোট রায়পাড়া পো: বি কে রায়পাড়া থানা গজারিয়া, জেলা মুসিগন্জ। এছাড়া মোকাবেলা বিবাদী করা হয়েছে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক মুন্সিগঞ্জ, সাবরেজিস্টার, গজারিয়া ও সহকারী কমিশনার ( ভুমি) গজারিয়া মুন্সিগঞ্জকে।
এদিকে বাদী ইন্জিনিয়ার মো: আতিকুর রহমান হলেও পরবর্তীতে আম মোক্তার নামা ( রেজি:১৬১) দলিল মুলে মামলার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় মো: আনোয়ার হোসেন নামক জনৈক ব্যক্তিকে । মামলার আর্জির চুম্বক অংশ হলো, আম মোক্তার নামা দলিল নং ১২৪২ তাং ১৪/০৩/২০১৫ দলিলটি অকার্যকর মর্মে ঘোষণা মুলক মামলা। মোকদ্দমার তায়দাদ নং ধরা হয়েছে ১,০০,০০০ টাকা। বাদীর আর্জিতে বলা হয়েছে, ক তপছিল বর্নিত সম্পত্তি যাহা মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানায় অন্তর্গত বড় বালিয়াকান্দি মৌজাস্থিত সিএস খতিয়ান ২২১, ১৭৪, এস এ খতিয়ান ১০৫, ১৪৫ এবং আর এস ৩২৪ ও ৩২৫, সিএস / এসএ ৫৫০ নং দাগের, আর এস ৭৯৩ দাগে ৩৫+৩৬ মোট ৭১ শতক বটে। আরজীর ” খ “তপছিল বলা হয়েছে বর্নিত সম্পত্তি আমমোক্তার নামা দলিল যাহা গজারিয়া থানায় সাবরেজিস্টার অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল নং ১২৪২। বাদীর আর্জি অনুযায়ী তপসিল বর্নিত ভুমিতে সিএস ২২১, ১৭৪ নং খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত মালিক শরৎচন্দ্র সুত্রধন । তিনি পরলোকগমন করলে তাহার ত্যাজ্যবিত্তে হরেন্দ্র চন্দ্র, জ্যোতিষ চন্দ্র ওয়ারিশ সুত্রে মালিক হয় এবং বিগত এস এ জরীপে ১৪৫,১০৫ খতিয়ানে তাদের নামে রেকর্ড ভুক্ত হয়। পুর্ব দুদফা বর্ননামতে এস এ ১০৫, ১৪৫ খতিয়ানে নরেন্দ্র চন্দ্র দাস ও জ্যোতিষ চন্দ্র দাস ৫৫০ নং দাগে ৩৬+৩৫= ৭১ শতাংশ ভুমি নিজ ছাপামে প্রাপ্ত হয়। এদিকে নরেন্দ্র চন্দ্র অভাব হলে তাহার ত্যাজ্যবিত্তে মালিক হয় কালীকিশোর ভুমিক ও লালমোহন ভুমিক। এই দুই সহোদর গত ১৭/০৮/১৯৭৩ ই তারিখে হোসেন্দী এস আর অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১৮৯৯ নং সাফ কবলা দলিল মুলে আনিসুর রহমানের নিকট সাফ বিক্রয় করেন।ঐদিকে জ্যোতিষ চন্দ্র দাস মারা গেলে ত্যাজ্যবিত্তে ওয়ারিশ সুত্রে মালিক হয় একমাত্র পুত্র নবদ্বীপ।
পুর্ব দফার বর্ননামতে নবদ্বীপ মারা গেলে তাহার ত্যাজ্যবিত্তে কালীপদ সুত্রধর, তারাপদ সুত্রধর, বিমল চন্দ্র সুত্রধর ও হরিমতি সুত্রধর। এদের কাছ থেকে ২৮/০৮/১৯৭৩ তারিখে হোসেন্দী এস আর অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ২০০৯ নং সাফ কবলা দলিল মুলে একই গ্রহীতা আনিসুর রহমান ক্রয় করেন। সেই মোতাবেক ২৮/০৭/২০০৫ তারিখে গজারিয়া এস আর অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ২৪৪৩ নং এক খন্ড সাফ কবলা দলিল মুলে ” দি সিভিল ইন্জিনিয়ার্স লিমিটেডের” এমডি আতিকুর রহমান খরিদ সুত্রে মালিক হয়।
মামলার আর্জিতে আরো বলা হয়েছে হঠাৎ করে গত ০১/০৫/২০১৭ তারিখে ১-৩ নং বিবাদীর পক্ষে ৪ নং বিবাদী নালিশী “ক” তপছিল বর্নিত সম্পত্তির মধ্যে ৪৫.৯৩ শতাংশ পরিমিত ভুমি তাহার নামে আমমোক্তার নামা দলিলের মাধ্যমে মালিক হয়েছে বলিয়া এলাকায় এসে প্রকাশ করে। তাই বাদীপক্ষ ০৪/০৫/২০১৭ তারিখে ” খ” তপছিলের বর্নিত দলিলটির সহিমোহরী কপি সংগ্রহ করিয়া সর্বপ্রথম অবগত হয় যে, বাদীর স্বত্ব দখলীয় ” ক” তপছিলে বর্নিত সম্পত্তির ” খ” তপছিল বর্নিত আমমোক্তার নামা দলিলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । বাদীর আর্জিতে আরো বলেন ” খ” তপছিল বর্নিত আমমোক্তার নামা দলিলের দাতাগন বহু পূর্বেই বাংলাদেশ ত্যাগ করিয়ে স্বপরিবারে ভারত চলে গেছে, এমনকি বাংলাদেশে তাদের কোন বাসস্থান নাই । বাদীর আর্জি আমমোক্তার নামা দলিলটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সুজন করেছে । তাই আদালতে আরজ করেছে দলিলটি বাতিলের জন্য ।
(দ্বিতীয় পর্বে থাকছে মামলার আর্জিতে মহাজালিয়াতি এবং মামলা প্রত্যাহারের আসল কাহিনী।
মন্তব্য করুন