খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা হ/ত্যাকাণ্ডের গা শিউরে ওঠা রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। একাধিক ছেলের সাথে সম্পর্কের জেরে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হলে, নিজ জন্মদাত্রী মা ও বাবা মিলে নির্জনাকে নির্মমভাবে হ/ত্যা করেন। এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ম/রদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি নিজের মেয়েকে হ/ত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার পর থেকে নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ই জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর ম/রদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পরদিন শুক্রবার (১০ জুলাই) পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হ/ত্যা মামলা দায়ের করে।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান: “তদন্তের শুরুতে নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং হ/ত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মা সিমা জানান, বিভিন্ন ছেলের সাথে মেয়ে নির্জনার সম্পর্কের বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছিলেন না। এই নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে তারা মেয়েকে হ/ত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। সিমা’র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হ/ত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের লাঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হ/ত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন