নিজস্ব প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের অপরাধ জগতের সম্রাট স্বপ্না সরকার ও মাদক কারবারি মেহেদীর সিন্ডিকেট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে এবং বিগত সরকারের আমলের অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে টাকার বিনিময়ে ‘আত্মীয়তার জাল’ তৈরি করে অবাধে অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চিহ্নিত এই অপরাধীরা হাতে-নাতে ধরা পড়ার পরেও পুলিশের কাছে ‘পবিত্র’ ও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে, এমনকি ১ কেজি ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক হওয়ার পরেও টাকার বিনিময়ে মেহেদীর মতো মাদক কারবারিরা মামলা থেকে কৌশলে মুক্তি পাচ্ছে।
গত পর্বের রিক্যাপ: পূর্বের পর্বগুলোতে আমরা তুলে ধরেছিলাম কীভাবে তথাকথিত যুব মহিলা লীগ নেত্রী স্বপ্না সরকার ও মেহেদীর সিন্ডিকেট নারীদের কৌশলে ফাদে ফেলে বিবস্ত্র করে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করছে। ভুক্তভোগী নেত্রী রানী মালা ইতিমধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, কিন্তু পুলিশ বাড়ির বাইরে বিশাল তালা ঝুলিয়ে ‘অন্ধ’ অভিযানের নাটক সাজিয়ে মূল অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে আসছে।
নতুন তথ্য ও দ্বন্দ্বের স্বরূপ: এবারের পর্বে উঠে এসেছে ডিবি অফিস, ইনফর্মার এবং দালালদের সাথে স্বপ্না-মেহেদী চক্রের নতুন দ্বন্দ্বের খবর
চুক্তির লঙ্ঘন: ডিবি অফিসের সাথে এই সিন্ডিকেটের মাসোহারা বা কন্টাক্ট হয়েছিল মূলত মাদক ব্যবসা এবং মেয়ে মানুষের ব্যবসার (দেহ ব্যবসা) জন্য। কিন্তু স্বপ্না-মেহেদী সিন্ডিকেট চুক্তির বাইরে গিয়ে নারীদের এনে ধর্ষণ করা, ভিডিও ধারণ করা এবং ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দিচ্ছে।
ইনফর্মার ও দালালদের ক্ষোভ: এই অতিরিক্ত অপরাধের কারণে ডিবি অফিসের ইনফর্মার এবং টাকা-পয়সা লেনদেনের দালালরা এখন স্বপ্না ও মেহেদীর ওপর অত্যন্ত ক্ষিপ্ত। কারণ, ব্ল্যাকমেইলের এই জঘন্য অপরাধের জন্য তারা কোনো বাড়তি টাকা বা সুবিধা পাচ্ছে না, অথচ অপরাধের মাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় তারাও বিপদে পড়ার আশঙ্কা করছে।
প্রশাসনিক সংকট: ডিবি অফিসের সাথে কন্টাক্ট থাকলেও, অতিরিক্ত অপরাধের এই মাত্রার কারণে তাদের মধ্যে বর্তমানে এক ধরনের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন ও সমস্যা চলছে।
সচেতন সমাজের মন্তব্য: সচেতন সমাজ মনে করে, বিগত সরকারের আমলে অর্থের বিনিময়ে চাকরিতে ঢোকা এই দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসাধু কর্মকর্তাদের প্রশাসন থেকে সমূলে বিদায় না করলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কখনোই উন্নতি হবে না।
ময়মনসিংহের সচেতন যুবসমাজ আজ ধিক্কার জানাচ্ছে সেই সব কর্মকর্তাদের, যারা সামান্য কিছু উচ্ছিষ্ট টাকার বিনিময়ে নিজেদের বিবেক ও দেশের সেবা করার পবিত্র শপথ বিক্রি করে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন