জহির উদ্দিন বাবর, সাদ্দাম ও গৌতমকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ থেকে ফিরে: ময়মনসিংহের (বিআরটিএ) কার্যালয়কে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট এবং অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সরকারি সেবাকেন্দ্রটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মোটরযান পরিদর্শক মোঃ জহির উদ্দিন বাবর। তার সঙ্গে গৌতম, সাদ্দাম এবং আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের অভিযোগে বারবার উঠে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালালচক্র, যারা বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ১০–১৫ সদস্যের একটি সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে কাজ করছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের বাইরে থেকে সরাসরি সেবা নিতে গেলে শুরু হয় অযথা হয়রানি, কাগজপত্রে খুঁত ধরা, ফাইল আটকে রাখা এবং দীর্ঘসূত্রতা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য সেবা নিতে গেলে প্রায় প্রতিটি ধাপেই অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের চাপ থাকে। অনেকের ভাষায় দালাল ছাড়া বিআরটিএতে কোনো ফাইল নড়ে না।সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, ত্রুটিপূর্ণ ও অনিরাপদ যানবাহনও অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ পাচ্ছে। যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা শুধু দুর্নীতির বিষয় নয় এটি সরাসরি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বহিরাগত দালালরা নিয়মিতভাবে সরকারি নথিপত্র ও সংবেদনশীল ফাইল ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত, সেখানে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ছোট ছোট ঘুষের লেনদেন থেকে শুরু করে বড় অঙ্কের অনুমোদন সব মিলিয়ে এখানে কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থ লেনদেন হচ্ছে।
বক্তব্য নিতে একাধিকবার চেষ্টা, সাড়া মেলেনি
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোটরযান পরিদর্শক মোঃ জহির উদ্দিন বাবর-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগে নাম আসা গৌতম, সাদ্দাম এবং সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী পরিবহন মালিক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি
সদর দপ্তর (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত দ্রুত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।
প্রশ্ন এখন একটাই
ময়মনসিংহ বিআরটিএ কি জনসেবার কেন্দ্র, নাকি ঘুষ বাণিজ্যের নিরাপদ অভয়ারণ্য
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ময়মনসিংহবাসী।
মন্তব্য করুন