ভূমিহীনের জমিতে বসবাস, অথচ কোটি টাকার ছয়তলা ভবন—সম্পদের উৎস নিয়ে তোলপাড়
বদলি হলেও ফেরেন পুরোনো পদে, এলএ শাখাকে ঘিরে দুর্নীতির গন্ধ
বিশেষ প্রতিনিধি , ময়মনসিংহ থেকে ফিরে: সরকারি চাকরি, সীমিত বেতন—কিন্তু জীবনযাপন যেন কোনো বড় ব্যবসায়ীর। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার নাজির মোঃ ফারুককে ঘিরে এখন এমনই বিস্ফোরক আলোচনা চলছে প্রশাসনিক অঙ্গনজুড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার বদলি হলেও রহস্যজনকভাবে তিনি আবারও ফিরে আসেন নিজের পছন্দের জায়গায়। আর সেই জায়গাটি হলো—ডিসি অফিসের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা, যেটিকে অনেকে “টাকার খনি” বলেও আখ্যা দেন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তার সম্পদ নিয়ে।
অভিযোগ রয়েছে, শহরের সানকিপাড়া গোয়ালকান্দি এলাকায় দুই ইউনিটবিশিষ্ট একটি ছয়তলা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন মোঃ ফারুক। স্থানীয়দের মতে, ভবনটির নির্মাণ ব্যয় কয়েক কোটি টাকার কম নয়।কিন্তু প্রশ্ন হলো—একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব? এখানেই শেষ নয়।
আরও গুরুতর অভিযোগ—মোঃ ফারুক বর্তমানে ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি জমিতে বসবাস করছেন। অর্থাৎ কাগজে-কলমে যদি তিনি ভূমিহীন শ্রেণির সুবিধাভোগী হন, তাহলে কোটি টাকার ভবনের মালিক হলেন কীভাবে? এই দ্বৈত বাস্তবতা এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষায়—
একদিকে ভূমিহীনের তালিকায় নাম, অন্যদিকে কোটি টাকার ভবন—এ হিসাব মেলে না।এলএ শাখা মানেই কি ‘টাকার খনি
ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতিপ্রবণ বিভাগ হিসেবে আলোচনায়। অভিযোগ রয়েছে, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ, ফাইল প্রসেসিং, নথি ছাড়করণ—প্রায় প্রতিটি ধাপেই চলে অঘোষিত আর্থিক লেনদেন। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, ফাইলের গতি বাড়াতে, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাড়াতে কিংবা কাগজপত্র দ্রুত ছাড়াতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে। আর এই প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উঠে আসছে নাজির ফারুকের নাম। একাধিক সূত্র বলছে, বদলি হলেও তার প্রভাব কমেনি। বরং প্রশাসনের ভেতরে শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে তিনি বারবার নিজের সুবিধাজনক অবস্থানে ফিরে আসেন।
প্রশ্নের মুখে সম্পদের উৎস
সচেতন মহলের প্রশ্ন—একজন নাজিরের বৈধ মাসিক আয় কত? সেই আয়ে কি কয়েক কোটি টাকার ভবন নির্মাণ সম্ভব?
নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবৈধ আয়, ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্নীতির শক্তিশালী চক্র? স্থানীয়দের দাবি, এখনই যদি এই সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির ভয়াবহতা আরও বাড়বে।
তদন্ত দাবি স্থানীয়দের
সুশীল সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মোঃ ফারুকের ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
অভিযোগ সত্য হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাদের।
প্রশ্ন এখন একটাই—
নাজির ফারুকের সম্পদের পেছনে বৈধ আয়, নাকি দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত।
চলবে…
পরবর্তী পর্বে: এলএ শাখার ফাইল বাণিজ্যের নেপথ্যে কারা? কীভাবে গড়ে উঠেছে কথিত দুর্নীতির সিন্ডিকেট? সামনে আসবে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মন্তব্য করুন