নিজস্ব প্রতিবেদক ,মুন্সীগঞ্জ: উপজেলার একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মুক্তার হোসেন, বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখায় কর্মরত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক সময়ের সাধারণ পরিবারের সন্তান এই সরকারি কর্মচারী অল্প সময়ের ব্যবধানে অর্ধশতকোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন।
‘আলাদিনের চেরাগ নয়, ঘুষ-দুর্নীতির গুপ্তধন’—অভিযোগ স্থানীয়দের
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদ স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও নিকটজনদের নামে গোপনে ক্রয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যাতে আইনি নজর এড়ানো যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রামের বাড়ি এলাকায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়িটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, ফার্নিচার ও নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কথাও জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এক সময়ের নৌকা মাঝি ও জেলে পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচিত পরিবারটি বর্তমানে আকস্মিক আর্থিক পরিবর্তনে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ফ্ল্যাট, জমি ও ব্যাংক ব্যালেন্সের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজধানীর এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে জমি ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
এছাড়া পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যাংক হিসাবেও বিপুল অর্থ জমা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিদ্যালয় ও বিভিন্ন খাতে আর্থিক প্রভাবের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাউশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজেকে ‘উদার দাতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে অনুদান দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
চাকরি জীবনের ধাপে ধাপে উত্থান
সূত্র জানায়, মুক্তার হোসেন প্রথমে ভূমি অফিসে নাজির হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। এই সময়ের মধ্যেই তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ: প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে অনিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তার হোসেন বলেন,“আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
নোট: এটি অভিযোগনির্ভর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন; কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষ এখনো অভিযোগ প্রমাণিত করেনি।
মন্তব্য করুন