মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন প্রথম কর্মদিবসেই চট্টগ্রামের উন্নয়নে একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা ও নানামুখী বার্তা দিয়েছেন। দুর্নীতি ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করার পাশাপাশি একটি সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আজ ১৭ জুন, ২০২৬ (বুধবার) সকালে ঐতিহ্যবাহী শাহ সূফী হযরত আমানত শাহ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রথম কর্মদিবসের শুরু করেন নতুন চেয়ারম্যান। এরপর তিনি প্রথমবারের মতো চউক ভবনে প্রবেশ করলে সিডিএ-এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।
প্রথম দিনেই ৩ প্রকল্প দ্রুত শেষের তাগিদ: অফিসে বসেই নতুন চেয়ারম্যান সিডিএ-এর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুলের কাছ থেকে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি চউকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে এক পরিচিতি সভায় মিলিত হন।
সভায় প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এবং কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট থেকে চাক্তাই সংযোগ সড়ক—এই তিনটি প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ডিসেম্বরের আগেই সমাপ্ত করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আগামী ডিসেম্বরে এগুলো উদ্বোধন করবেন।” এই লক্ষ্যে নগরের সব সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে তিনি চউকের বদ্ধপরিকর অবস্থানের কথা জানান।
অবৈধ দখল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: পরিচিতি সভায় নতুন চেয়ারম্যান একটি নান্দনিক ও সবুজ চট্টগ্রাম বিনির্মাণে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের যথাযথ নকশা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা হবে। যত বড় ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, অবৈধ দখল করলেই উচ্ছেদসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিডিএকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি নিজেও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হব না, আপনাদেরও বলব দুর্নীতি যেন আপনাদের কাছ থেকে দূরে থাকে।”
উক্ত পরিচিতি সভায় চউকের সার্বক্ষণিক সদস্য(অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নুরী, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ দুপুরে কালুরঘাট বি.এফ.আই.ডি.সি সড়কের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রস্তাবিত আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে যান চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকর-উজ-জামান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশলাদি বিনিময় করেন। চট্টগ্রামবাসীর জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এই আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের জন্য সেনাপ্রধানের নিকট বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন চউক চেয়ারম্যান।
এরপর চউক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আমন্ত্রণে রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত ‘ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’-এর শাখা স্থানান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
মন্তব্য করুন