বিশেষ প্রতিনিধি : সম্প্রতি পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিটি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রভাব এখনো কীভাবে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে বহাল রয়েছে? অভিযোগ রয়েছে, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুহম্মদ আব্দুল্লাহ আল ইয়াছিন শুভ্র এবং ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া বড় ধরনের আর্থিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৮১২ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইয়াছিন শুভ্র ও আতাউল কিবরিয়া বেনজীর আহমেদের আর্থিক নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দেশের বাইরে পাচারে তারা নিজেদের প্রভাব ও প্রশাসনিক অবস্থান ব্যবহার করেছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, পাচার হওয়া অর্থের বড় অংশ এসেছে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে। সমালোচকদের দাবি, প্রভাবশালী কিছু অদৃশ্য পরিচালকের ছত্রচ্ছায়ায় সংশ্লিষ্টরা এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, বেনজীর আহমেদ ভালুকা এলাকায় প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার জমি কিনেছেন, যার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া।
সূত্র বলছে, পুরো ঘটনায় উচ্চপর্যায়ে নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশে দুটি গোয়েন্দা সংস্থা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও পৃথক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তের জালে সাবেক চার ওসি এবং দুই সাবেক এমপিও জড়িয়ে পড়তে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের কেনাকাটা কার্যক্রম, সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং নিম্নমানের পোশাক সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এটিকে একটি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন