বিশেষ প্রতিনিধি: পুলিশ কর্মকর্তা মো: আব্দুল্লাহ আল ইয়াছিন শুভ্র আছেন বরিশাল ট্রেনিং সেন্টারে। ২৮ ব্যাচের এই কর্মকর্তা র্যাবে থাকাকালে তৎকালিন র্যাবের ডিজি বেনজির আহমদের বিশ্বস্ত হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন সর্বত্র। পুলিশ প্রধান হয়ে বেনজির আহমদ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বসার পর তার গ্যাটিস ইয়াছিনকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলী করে নিয়ে আসেন এবং পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখায় পদায়ন করেন।
মূলত লজিস্টিক্স শাখা চালাতেন এই ইয়াছিন এবং বেনজিরের ডিমান্ড অনুযায়ী সরকারি কেনাকাটায় তস্রুপ করেন। বেনজির সদর দপ্তরে এসেই কেনাকাটার একটি পুরো সিন্ডিকেট তৈরী করে করেন। বিভিন্ন শাখায় কেবল তার অনুগত লোকজনকে বসান। কোন কোন শাখা খালি রেখে অনুগত লোকজনকে উক্ত শাখায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েও চালাতে থাকেন।
ইয়াছিন বেনজিরের পুরোটা সময় হেডকোয়ার্টার্সে থেকে লজিস্টিক্সের মূল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেনজিরের অন্যতম বড় ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেন।
তিনি সকল পারচেজিং শাখার কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির কোর সদস্য হিসেবে লজিস্টিকস শাখা ছাড়াও আর্ম অ্যামুনিশন, ইকুইপমেন্ট ১ ও ২, ট্রান্সপোর্ট, সাপ্লাই ইত্যাদি প্রায় সকল শাখার ক্রয় কমিটির কোর সদস্য হিসেবে বেনজিরের ভাগ নিশ্চিত করেন।
বেনজিরের বিজনেস পার্টনার ছিল বিকাশ সাব্বির যার প্রতিনিধি হিসেবে আর্মির একজন সাবেক ক্যাপ্টেন জুবায়ের সর্বদা ইয়াছিনের সাথে মিলে মিশে কাজ করেন। তাদের মূলত কাজ ছিল যে কোন টেন্ডার প্রক্রিয়ার আগে ভেন্ডরের সাথে মিটিং করে তাদের কাছ থেকে কমিশন নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে তারা ক্ষেত্রবিশেষে অ্যাডভান্সড কমিশন মানিও নিয়ে নিত। যা বেনজিরকে দেয়ার পর বাকি উদৃত্ত ইয়াছিন এবং জুবায়ের ভাগ করে নিতেন। বেনজিরের অফিসের রিলাক্স কক্ষে কেবলমাত্র ইয়াছনেরই প্রবেশাধিকার ছিল। যে কারণে ইয়াছিনকে অন্যান্য প্রায় সকল উর্ধতন কর্মকর্তাই ভয় পেতেন।
ইয়াছিনের উপরে অতি: ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া ও ডিআইজি তৌফিক মাহবুব ছিলেন মূলত ডামি। বেনজির ডিএমপির কমিশনার থাকাকালে এই আতাউল কিবরিয়াকে জয়েন্ট কমিশনার লজিস্টিক্স হিসেবে ব্যবহার করেন।
ইয়াছিন তার ব্যাচের সময় প্রমোশন বঞ্চিত হন একটি বিশেষ কারণে। বেনজির তার জন্য অনেক সুপারিশ করলেও মূলত ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয়ের জন্য ইয়াছিনের প্রমোশন আটকে যায়। ইয়াছিন এর সাথে তার স্ত্রীর বনিবনা হচ্ছিল না। র্যাবে কর্মরত থাকার সময় তার স্ত্রীর দিকের আত্মীয়দেরকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে তাদের জীবন অতিষ্ট করে ফেলেন। শুধু বিয়েটা টিকিয়ে রাখার জন্য তার স্ত্রীর দিকের আত্মীয়রা কোন অ্যাকশনে যায় নি। ডিভোর্সের পরেও ইয়াছিন তাদের সবাইকে নানাভাবে অপদস্ত করায় এক সময় তারাও ইয়াছিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। তার স্ত্রীর দিকের এক আত্মীয় ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিব যার নাম জুবাইদা মান্নান। উক্ত যুগ্মসচিবের অভিযোগের কারণে পুলিশের কড়া সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ইয়াছিন তার ব্যাচের সাথে এসপি হতে পারেননি।
বেনজির পিআরএলে যাবার পূর্বে তার সকল ক্যাশিয়ার ও অনুগতদের যার যার পছন্দঅনুযায়ী পোস্টিং এর ব্যবস্থা করে দেন। ইয়াছিনের ইচ্ছার ভিত্তিতে বেনজির পিআরএল এ যাবার পূর্বে মোহাম্মদ আলীকে রিকোয়েস্ট করে তাকে সিআইডিতে Financial Crime Unit e পোস্টিং দেয়া হয়।
ইয়াছিনকে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরির মামলার আইও করা হয়। তখন বেআইনীভাবে তিনি মামলার রিপোর্ট অন্য সংস্থাকে সরবরাহ করে ও পূর্বের আইওর সম্পন্ন করে যাওয়া মামলা চার্জশিট দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপন করে। পরবর্তীতে এই মামলা সে দুদকে দিয়ে দিতে সর্বোচ্চ চেস্টা করে।
৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর ইয়াছিন নিজেকে বঞ্চিত হিসেবে দাবী করে এসপি পদে পদোন্নতি নিয়ে নেন।
মন্তব্য করুন