বিশেষ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের পটিয়া শান্তিরহাট এলাকায় সাইনবোর্ডের ঝকঝকে বিজ্ঞাপনের আড়ালে চলছিল মৃত্যুফাঁদ। শান্তির হাটের “বি ডেন্টাল কেয়ার”-এর মালিক ‘ডা. শুভ ধর’ নামের ব্যক্তি কোনো বিএডিএস ডিগ্রি বা বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়াই বছরের পর বছর দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডিগ্রিহীন, তবুও ‘ডাক্তার’ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুভ ধরের নামে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে বিএডিএস ডিগ্রি বা রেজিস্ট্রেশন নেই। তারপরও তিনি নিজেকে ডেন্টিস্ট পরিচয় দিয়ে দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল, ব্রেস লাগানোর মতো জটিল কাজ করতেন। মাত্র ২০০-৩০০ টাকার লোভ দেখিয়ে নিম্নআয়ের মানুষকে টার্গেট করা হতো।
ভুল চিকিৎসায় পঙ্গুত্বের দ্বারপ্রান্তে রোগীরা
ভেল্লাপাড়ার ২৫ বছর বয়সী ফয়সাল মাত্র ৩০০ টাকায় দাঁত তুলতে গিয়ে আজ মুখের একপাশ বিকৃতি নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। যন্ত্র জীবাণুমুক্ত করার অটোক্লেভ মেশিন না থাকায় একই যন্ত্র ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা হতো। ফলে হেপাটাইটিস বি, সি, এমনকি এইচআইভির মতো প্রাণঘাতী সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
১৬ বছরের স্কুলছাত্রী জান্নাত আক্তার ৮ হাজার টাকা দিয়ে নকল ব্রেস লাগিয়ে এখন মুখ লুকিয়ে বেড়াচ্ছে। তার মাড়িতে পচন ধরে দাঁত ঢিলে হয়ে গেছে।
আইন কী বলছে
বিএমডিসি আইন ২০১০ অনুযায়ী, বিএডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কেউ দাঁতের চিকিৎসা দিলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এজন্য সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া দণ্ডবিধি ৩০৪(ক), ৩৭, ৩৮ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যু ও গুরুতর আঘাতের মামলা করা যাবে।
প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর রেহমান জানিয়েছেন, “প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া কেউ চিকিৎসা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া ডেন্টিস্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।”
দাবি: সিলগালা ও গ্রেপ্তার
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত “বি ডেন্টাল কেয়ার” সিলগালা করে শুভ ধরের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া আর তদারকির অভাবে এই ভুয়া চিকিৎসকরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করে যাচ্ছেন।
সতর্কবার্তা
দাঁতের চিকিৎসা চোখ-নাকের মতো স্পর্শকাতর। সস্তার প্রলোভনে পড়ে ডিগ্রি-নিবন্ধন যাচাই না করে চিকিৎসা নিলে ফয়সাল-জান্নাতের মতো আজীবনের ভোগান্তি নিশ্চিত। চিকিৎসা নেওয়ার আগে ডাক্তারের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর অবশ্যই দেখে নিন।
মন্তব্য করুন