নিজস্ব প্রতিবেদক, গফরগাঁও: গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, দেশে পুরোনো ধাঁচের সাংবাদিকতা আর চলবে না। গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রেস কাউন্সিলকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গফরগাঁও উপজেলা শাখার আয়োজনে ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে এক উদ্বোধনী শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো মিডিয়া গড়ে তোলা বন্ধ করতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তথ্য কমিশন গঠন করে গণমাধ্যমকে নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছাড়া সংবাদ পরিবেশন করে দেশ ও জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।
তারা আরও বলেন, তথ্য মন্ত্রী ইতোমধ্যে সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা ও সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কথা বলেছেন। এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিগত সরকার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কথা বলে বিভিন্ন আইন করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছিল। বর্তমান সরকারকে সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে সাংবাদিকদের অধিকার ও দাবি পূরণ হয়নি। তাই আগামী ৭ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিতব্য সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশ সফল করতে দেশের সব গণমাধ্যমকর্মীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এসময় নেতৃবৃন্দ জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানসহ ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। দাবির মধ্যে রয়েছে—পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম গফরগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অনলাইন পোর্টাল সম্পাদক মাজহারুল হক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম গফরগাঁও উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও জার্নালিস্ট রুহুল আমিন, সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক, শামসুল ইসলাম সরদার, মনির হোসেন, আবুল হোসেন, হেলেনা আক্তারসহ আরও অনেকে।কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নের দাবিতে ১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানানো হয়।
মন্তব্য করুন