নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত বেসরকারি সংস্থা Society for Health Extension and Development (SHED)-এর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যৌন শোষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধ (PSEA) নীতিমালা লঙ্ঘন, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো ঘিরে ইতোমধ্যে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (RRRC) কার্যালয় গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে এসব অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। চিঠিতে সহকারী সচিব নওশের ইকবাল হালিম স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের অন্যতম গুরুতর দিক হলো, সংস্থাটির অভ্যন্তরে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে তা আড়াল করার চেষ্টা। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২W-এ কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিকবার PSEA সংক্রান্ত অভিযোগ উঠলেও কোনো দৃশ্যমান তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক, আইএসপি কর্মকর্তা, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজারসহ সংস্থার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অপব্যবহার, ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং যৌন শোষণের অভিযোগ উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ‘নিরাপদ প্রস্থান’-এর সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একজন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকের করা যৌন শোষণের অভিযোগও তদন্তবিহীন থেকে গেছে বলে জানা গেছে, যা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর জন্য নির্ধারিত কঠোর নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংস্থাটির বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অর্থ লেনদেন এবং স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটেছে। আত্মীয়স্বজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া এবং বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রকল্প ব্যয়ে অনিয়ম, নগদ লেনদেন, এবং যথাযথ ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগও উঠেছে। ২০২২ সাল থেকে পরিচালিত কার্যক্রমের অনেক ব্যয়ের কোনো বাহ্যিক বা দাতা সংস্থার নিরীক্ষা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নামে ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন করা হলেও তারা সেই অর্থ পাননি, এমন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান ও পিকনিক আয়োজনের ঘটনাও সামনে এসেছে।
কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি প্রকল্প তদারকিতে জড়িত অংশীদার সংস্থার কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী পক্ষ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা এবং হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে। ইতোমধ্যে RRRC কার্যালয় সংস্থাটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। প্রাপ্ত জবাবের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি এমন মত বিশ্লেষকদের।
মন্তব্য করুন