বিশেষ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ পৌর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবন কুমার বিশ্বাস ১৯৯৬ সালে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর জেলার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় থেকেই ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ভূমি সেবা: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ভূমি অফিসে সাধারণ সেবা পেতেও নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতো। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— নামজারি আবেদনের প্রতিবেদনের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি ডিসিআর ইস্যু ও খাজনা আদায়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া, মিসকেস নিষ্পত্তি ও হোল্ডিং নম্বর পেতে বাড়তি টাকা দাবি, টাকা না দিলে আবেদন ঝুলিয়ে রাখা বা হয়রানি করা স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “টাকা দিলে কাজ দ্রুত হয়, আর টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।” ভালুকায় দায়িত্বকাল নিয়ে নানা অভিযোগ: অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ও মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে শিল্প কারখানা সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্র নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি: শিল্প কারখানা মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জমি সংক্রান্ত সুবিধা পাইয়ে দেওয়া সরকারি খাস জমি ও পুকুর লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম খাজনা খারিজে বাধ্যতামূলক ঘুষ আদায়ের অভিযোগ সরকারি জমি পজিশন দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হলেও জমির পজিশন বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।বিপুল সম্পদের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন: অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জীবন কুমার বিশ্বাসের নামে ও বেনামে একাধিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে— ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন কিসমত মৌজায় প্রায় ৬ একর জমি, জিলা স্কুলের পাশে নজরুল সেনা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি, নতুন বাজার সাহেব আলী রোড–বাউন্ডারি রোডের কোণায় ভবন, ধোপাখোলা মোড়ের পাশে ‘ড্রিম টাওয়ার’ নামে নির্মাণাধীন ভবন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন ভূমি কর্মকর্তার বেতন দিয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব?
বদলির ইতিহাস ও বর্তমান কর্মস্থল: সূত্র জানিয়েছে, ভালুকায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর তাকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বোররচর ইউনিয়নে বদলি করা হয়। তবে সেখানে অল্প সময় দায়িত্ব পালন করে তিনি পরে ময়মনসিংহ পৌর ভূমি অফিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন কর্মস্থলেও ঘুষের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্তের দাবি: স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি বিষয়টি তদন্ত করে, তাহলে জীবন কুমার বিশ্বাসের সম্পদের উৎস এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হবে।এ বিষয়ে জীবন কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন