নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহে আলোচিত রাকিব হত্যা মামলায় নতুন করে গতি এসেছে। মামলার ছয়জন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক ডিবি কর্মকর্তা রেজাউল আমিন বষণ এর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাকিব হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায় আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে ছয় আসামিকে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সাবেক ডিবি কর্মকর্তা রেজাউল আমিন বষণ বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্বে থাকার সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করেছেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েক কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল আমিন বষণ ছিলেন সাবেক ময়মনসিংহের এসপি মাসুম ভুইয়া এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় (খালাতো ভাই)। স্থানীয় মহলে আলোচনা রয়েছে, এই আত্মীয়তার সম্পর্ক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নানা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, হত্যা মামলার তদন্ত এবং দুর্নীতির অভিযোগ দুই বিষয়ই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে মোকাবিলা করা উচিত বলেও তারা মত দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৩ সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে মামলার তদন্ত ও দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত বা অপ্রমাণি কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। পরবর্তী অগ্রগতির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত ও দুদকের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা
মন্তব্য করুন