ময়মনসিংহ অফিস: ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাড়েরাপুল এলাকায় মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আরজুম আশা (৩৩) নামে এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বেখৈরহাটি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আনিসুর রহমান (৪৫)-কে বিয়ে করেন আশা। বিয়ের পর স্বামী তাকে আলাদা একটি ভাড়া বাসায় রাখলেও নিজ বাড়িতেই বেশি সময় অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার আশা একাই স্বামীর বাড়িতে গেলে সেখানে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের উপস্থিতি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে ঘরের ভেতর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য –এ পাঠায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। –এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের বলেন, “মৃত্যুটি হত্যা না আত্মহত্যা—এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার আগে দাম্পত্য কলহ ও শারীরিক নির্যাতনের শব্দ তারা শুনেছেন।
তাদের দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রভাবশালী মহল সত্য আড়াল করতে না পারে। ঘটনাস্থল শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আশার নিজ জেলা তেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ৩০৬ ধারায় মামলা নেওয়া তদন্তের স্বার্থে করা হলেও, ময়নাতদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে হত্যার আলামত মিললে মামলার ধারা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা যোগ করা যেতে পারে। এদিকে নিহত আশার পরিবার ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে—ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দ্রুত নিষ্পত্তি না করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শক্ত শিরোনাম করো
মন্তব্য করুন