নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর২০১৯ সালের একটি মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্ত নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই শহিদুল ইসলামের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে দেখা যায়, মামলার প্রাথমিক অভিযোগ বা এজাহারকে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই হুবহু তদন্ত প্রতিবেদন হিসেবে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০১৯ সালের ৩১ মে গাজীপুরের পোড়াবাড়ী এলাকায় র্যাব-১-এর একটি অভিযানে ৩০০০ পিস ইয়াবা এবং একটি বিদেশি পিস্তলসহ মেহেদী হাসান নাদিম ও কামাল হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তৎকালীন নায়েব সুবেদার মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন এবং মামলার তদন্তভার পান এসআই শহিদুল ইসলাম।
ফোনালাপের চাঞ্চল্যকর তথ্য: ট্রান্সক্রিপশন অনুযায়ী, জনৈক এক ব্যক্তি শহিদুল ইসলামকে মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি বাদীপক্ষ অর্থাৎ র্যাবের দেওয়া এজাহারটিই মূলত তদন্ত প্রতিবেদন হিসেবে পেশ করেছেন। শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনার পর আসামিদের দ্রুত আদালতে চালান দেওয়া এবং বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদে এজাহারের হুবহু বক্তব্য পাওয়ায় তিনি আলাদা কিছু উল্লেখ করেননি।
তবে অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি দাবি করেন যে, মামলার বাদী নায়েব সুবেদার দেলোয়ার হোসেন নিজেই এখন বলছেন যে তিনি এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে সবকিছু সাজানো হয়েছিল। এমনকি মামলার অনেক সাক্ষী ও পুলিশ সদস্যকে ‘কাল্পনিক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দায় ও আলামত নিয়ে বিতর্ক: কথোপকথনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারকৃতদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি (মাজদা প্রাইভেটকার) অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও তিনি তা অস্বীকার করেন। শহিদুল ইসলাম আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, “বাদী যা বলছে আমি তাই লেখছি… কোর্টে যেয়ে অনেক সময় কনফেশন প্রত্যাহার করে নেয়”। তবে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে একটি ‘সাজানো’ এজাহারের সত্যতা যাচাই না করে প্রতিবেদন জমা দেওয়াকে আইনের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন অপর ব্যক্তিটি। এই মামলার আসামিরা ১৮ মাস জেল খাটার পর এখন মামলার সত্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্তের নামে শহিদুল ইসলামের এই ‘হুবহু কপি’ করার প্রবণতা নিরীহ মানুষের ক্ষতির কারণ হয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
মন্তব্য করুন