গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের সালনা থেকে নাগা, এ টি আই হয়ে শিমুলতুলি পর্যন্ত এবং বিআইডিসি সড়কের দুই পাশে শত শত আবাসিক ভবনে বছরের পর বছর ধরে চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো এই অনিয়ম বন্ধ করতে যেসব অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়, সেগুলোই এখন রীতিমতো অর্থ বাণিজ্যের উৎসে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালানোর খবর ছড়ালেই ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা শুরু হয়। যারা টাকা দেন, তাদের ভবনে কোনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। আর যারা দিতে গড়িমসি করেন, তাদের কয়েকটির নাটকীয়ভাবে লাইন কাটা হয় যেন অভিযান হয়েছে এমন একটি দৃশ্য তৈরি করা যায়।
একাধিক ভবন মালিক জানান, “অভিযানের আগেই লোক এসে বলে যায় এত টাকা দিলে কোনো সমস্যা হবে না। না দিলে লাইন কাটা পড়বে।” সূত্র মতে, কোনো কোনো অভিযানে প্রতি ভবন থেকে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এভাবেই ‘অভিযান’ এখন পরিণত হয়েছে নিয়মিত চাঁদাবাজির কৌশলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু দুর্নীতি নয় এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রকাশ্য লুটপাট। অবৈধ গ্যাস ব্যবহার চলছেই, উপরন্তু অভিযানের নামে জনগণের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় এই অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিতাস গ্যাসের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পুরো এলাকাজুড়ে এই অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, অবৈধ সংযোগ যদি সত্যিই বন্ধ করা হতো, তাহলে শত শত ভবনে বছরের পর বছর ধরে গ্যাস জ্বলছে কীভাবে? আর অভিযানের পরপরই সবকিছু আবার আগের মতো চালু হয় কেন?
এদিকে শাহনেওয়াজ পারভেজ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের যৌথ তদন্ত টিম গঠন করে তিতাস গ্যাসের এই অর্থ বাণিজ্য সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। দোষীদের শাস্তির আওতায় না আনলে ‘অভিযান’ শব্দটি মানুষের কাছে হাস্যকর নাটকে পরিণত হবে। গাজীপুরে এখন প্রশ্ন একটাই তিতাস গ্যাস অভিযান চালাচ্ছে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে, নাকি জনগণের পকেট কাটার জন্য?
মন্তব্য করুন