বিশেষ প্রতিনিধি: জনসেবার অঙ্গীকার থাকলেও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ উঠে আসছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, এই অনিয়মের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপ-সহকারী পরিচালক (এডি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে—তার অঘোষিত নির্দেশ ছাড়া কোনো পাসপোর্ট আবেদন কার্যত এগোয় না। সরাসরি আবেদন করলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়, আর দালালের মাধ্যমে আবেদন করলেই দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। আবেদনকারীদের দাবি, অফিসে একটি সক্রিয় দালালচক্র কাজ করছে, যার নেপথ্য নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এডি জামাল উদ্দিনের হাতে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নির্দিষ্ট ‘চিহ্ন’ বা ইঙ্গিত ছাড়া কোনো ফাইল প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয় না। ঘুষ প্রদান করলে ফাইল সচল হয়, আর না দিলে তা দীর্ঘদিন আটকে থাকে। এ অবস্থায় সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটি কার্যত একটি অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। দালাল রহিম নামে এক ব্যক্তিকে সামনে রেখে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, অভিযোগকারীদের মতে তিনি মূল নন—আসল সিদ্ধান্ত আসে অফিসের ভেতর থেকেই। মাসিক ভিত্তিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—কিছু স্থানীয় সাংবাদিককে নিয়মিত অর্থ প্রদান করে অনিয়মের খবর চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে দুর্নীতির বিষয়গুলো জনসমক্ষে আসছে না বলে দাবি সচেতন মহলের। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয় পাসপোর্ট অফিসের পাশেই অবস্থিত। তবু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা অভিযান না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এডি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তবে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছেন, “তার দাপট এমন যে তিনি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন।” সচেতন মহল ও নাগরিক সমাজের দাবি—এডি জামাল উদ্দিনকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত ও বদলি করে তার সম্পদের উৎস তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের সংস্থা কিংবা বিশেষ তদন্ত টিম দিয়ে পাসপোর্ট অফিসের সার্বিক অনিয়ম অনুসন্ধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন