মো: দিদারুল ইসলাম : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জ্যারটেক এলাকার পুলিশ চেকপোস্ট এখন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জায়গা নয় স্থানীয়দের ভাষায় এটি পরিণত হয়েছে অনিয়ম, হয়রানি ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজির কেন্দ্রে। পুলিশের পোশাকধারীর আড়ালে সিএনজি ড্রাইভার ও কথিত থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ধারী ব্যক্তিরা নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে তল্লাশি ও অর্থ আদায়ের কর্মকাণ্ডএমন ভয়াবহ অভিযোগ উঠে এসেছে।
গত ২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মইজ্জ্যারটেক চেকপোস্টে ডিউটিতে ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মিজান ও তার টিম। নিয়ম অনুযায়ী যানবাহন থামানো, যাত্রী তল্লাশি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা পুলিশের। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রত্যেকটি গাড়িতে সিগনাল দিচ্ছিলেন এক সিএনজি ড্রাইভার এমরান। তার নির্দেশে একজন কনস্টেবল গাড়িতে উঠে যাত্রীদের প্রাথমিকভাবে চেক করেন। যাত্রীকে ‘সন্দেহভাজন’ মনে হলেই গাড়ি থেকে নামিয়ে তল্লাশির নামে শুরু হয় হয়রানি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছিলেন এমরান নিজেই।
এ সময় চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন থানার ক্যাশিয়ার পরিচয় দেওয়া জোবাইর, সঙ্গে আরও একজন কনস্টেবল। অভিযোগ রয়েছে, তল্লাশির আড়ালে সাধারণ যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। হাতে সিগনাল লাইট নিয়ে দায়িত্ব পালন করা সিএনজি ড্রাইভার এমরানকে গণমাধ্যমকর্মী জিজ্ঞেস করলে আপনি কি পুলিশ উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন এমরান, “আপনি কে?” সাংবাদিক নিজের পরিচয় দেওয়ার পর এমরান অট্টহাসিতে বলেন, “আপনাকে তো ভাইয়া চিনি। পাশে থাকা জোবাইর তখন বলেন, “উঠল ভাই, পেট চালাইতে হবে না যা পুরো ঘটনাকে চাঁদাবাজির স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিউটিরত সাব-ইন্সপেক্টর মিজানের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, এমরান ও জোবাইরকে তিনি চেনেন না এবং তারা চেকপোস্টে কোনো দায়িত্বে নেই। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ঠিক সেই মুহূর্তেই এমরান ও জোবাইর কৌশলে চেকপোস্ট এলাকা ছেড়ে সরে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর এসআই মিজান চোখের ইশারায় এমরান ও জোবাইরকে পুলিশ বক্স থেকে বের করে দেন। গণমাধ্যমকর্মীরা এলাকা ত্যাগ করার পর আবারও এমরান ও জোবাইর চেকপোস্টে ফিরে এসে পুলিশের মতো ডিউটি করতে শুরু করেন এবং যাত্রী হয়রানি ও অর্থ আদায় অব্যাহত রাখেন।
স্থানীয়দের দাবি, মইজ্জ্যারটেক পুলিশ চেকপোস্টে এ ধরনের অনিয়ম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিদিনই বিভিন্ন সময় সাধারণ যাত্রীদের থামিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা যেন নিয়মিত পেশায় পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন যদি পুলিশ চেকপোস্টেই সাধারণ মানুষ নিরাপদ না থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলার দায়ভার কার? তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন