ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আইন বিভাগের সাবেক কনসালটেন্ট (মামলার ২ নম্বর আসামী) মোঃ মাহবুব আলম খান-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম (গুলশান আমলী) আদালত নং-০২, ঢাকায় দায়েরকৃত সি.আর. মামলা নং-২৫৬৩/২০২৫-এর ভিত্তিতে এই পরোয়ানা দেওয়া হয়।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানির পক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) শাহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সি.আর. মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৮/৪০৬/৫০৬/১০৯ ধারায় প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আরজি অনুযায়ী, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে সিএ ফার্ম এম.জে. আবেদীন, চার্টার্ড একাউন্টেন্টস-কে নিয়োগ দেওয়া হয়। সিএ ফার্মের দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জমা দেওয়া ‘Investigative Audit Report’ (তদন্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন)-এ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র পরিষ্কারভাবে উঠে আসে।
জালিয়াতির ধরন ও আত্মসাত
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আইডিআরএ (IDRA) এবং প্রশাসকের আইনি খরচের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে মোট ১,৮৮,৭৭,৪০০/- (এক কোটি আটাশি লাখ ৭৭ হাজার চারশত) টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মামলায় উল্লেখিত অন্য আসামীরা হলেন— ১. সাবেক ডিএমডি ও সিওও মোঃ মঞ্জুরে মাওলা, ২. কনসালটেন্ট (আইন বিভাগ) মাহাবুব আলম খান, ৩. সাবেক সিএফও মোঃ ফারহান উদ্দিন, এফসিএ, এবং ৪. সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার (আইন বিভাগ) মোঃ সাইফুজ্জামান।
তারা সবাই নির্দিষ্ট সময়ে ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্সে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া ভাউচার সৃজনের মাধ্যমে গ্রাহক ও কোম্পানির এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন।
আদালত আরজি ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অপরাপর আসামী এবং আইন উপদেষ্টা মোঃ মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। আইনানুযায়ী পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন