মোঃ হাসান , চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন দোহাজারী রেঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন উজাড়, গাছ পাচার, মামলা বাণিজ্য ও বনভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সহকারী বনরক্ষকের ইশারায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেঞ্জের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ করে গভীর রাতে সেগুনসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কাঠ পাচারকারীরা নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে ট্রাক ও ছোট যানবাহনে এসব কাঠ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিনে দোহাজারী রেঞ্জের বয়তারানি বিটের আওতাধীন বান্দরবান সীমান্তবর্তী সুলতানপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বনের মূল্যবান সেগুন গাছ কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, গত বছর চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বনরক্ষক (এসিএফ) একেএম ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। সে সময় প্রায় ২টি ট্রাক ভর্তি সেগুন কাঠ জব্দ করা হয় এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে পরবর্তীতে ওই মামলায় প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।যা স্থানীয়দের মধ্যে ‘মামলা বাণিজ্য’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
অভিযোগ আছে, বান্দরবান সদর উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র নিয়মিত বন থেকে গাছ কেটে বিক্রি করছে।এসব কাজে সরাসরি সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে বনরক্ষক এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানায়,সহকারী বনরক্ষক একেএম ইমরুল কায়েস দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় চাকরির সুবাদে নানা ধরনের অনিয়মের জড়িয়ে পড়েছেন।তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত অভিযুক্তদের আড়াল করা। একই সঙ্গে নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করে ‘লোক দেখানো’ মামলা করা। এছাড়া বনভূমির জমি দখল করে প্লট আকারে বিক্রি এবং অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণে সুযোগ দেওয়া। ধোপাছড়ি, দুধপুকুরিয়া, কামলাছড়ি ও বয়তারানি বিটের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে সামাজিক বনায়নের গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাচারে সহযোগিতা করা সহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সহকারী বনরক্ষককে ‘ম্যানেজ’ করে একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে দোহাজারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও মাঠ পর্যায়ে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তবে সহকারী বনরক্ষক একেএম ইমরুল কায়েস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তিনি এ সমস্ত কাজে জড়িত নয় বলে জানান। এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) উপবনরক্ষক মোহাম্মদ সোহেল রানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন