রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুহু মিয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গুনে পকেটে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষকের পেনশনের ফাইল ছাড়তে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। পরে আট হাজার টাকা দেওয়ার পর ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।আরেক সেবাগ্রহীতা আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর পেনশনের ফাইল নিষ্পত্তির জন্যও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তিনি পাঁচ হাজার টাকা দিলে তা ফিরিয়ে দিয়ে পুরো টাকা দিতে বলা হয়।শুধু পেনশন ফাইল নয়, টিআর, কাবিখা, এলপিআর, লাম্প গ্রান্টসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইলও ঘুষ ছাড়া অগ্রসর হয় না—এমন অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভিডিওটির সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তার ভাষ্য, “ঘটনা সত্য। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিক।”এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি ভাইরাল ভিডিওটি দেখেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।ঘটনাটি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি সেবা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের পেনশন বা প্রাপ্য সরকারি সেবা পেতে ঘুষের অভিযোগ জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে—ভাইরাল ভিডিও ও অভিযোগের ভিত্তিতে কী ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন