ফয়সাল হোসেন কাজল,নারায়ণগঞ্জ : থানায় দুর্নীতি, অনিয়ম ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। গত কয়েক মাসে রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও বন্দর থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে বদলি, প্রত্যাহার ও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন রাতে আড়াইহাজার থানার এসআই হাসানাঈন আহমেদকে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে ৭ জুন বন্দর থানার এসআই মাসুদ রানাকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বন্দরে ছুরিকাঘাতে নিহত এক যুবকের পরিবার মামলা করতে গেলে তিনি ঘুষ দাবি করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।
এদিকে, ৮ জুন বন্দর থানার আরও তিন এসআই—মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও ফারুককে বদলি করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন দাবি করেন, এটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত ১৫ মার্চ রূপগঞ্জ থানার তিন এসআই—হুমায়ুন আহমেদ, আহসানউল্লাহ ও নাদিরুল ইসলামকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। সে সময় জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতাই নয়, বিভিন্ন থানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘিরেও ঘুষের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুপি বলেন, “যাদের বদলি করা হয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। জনগণকে মানসম্মত সেবা দিতে জেলা পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।”
জেলা পুলিশের এমন অবস্থানকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন