নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায় মিটার বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ সংযোগের নামে নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে মোসলেম নামক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ উপায়ে তিনি শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। দুর্নীতির কর্মক্ষেত্র ও পদ্ধতি অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশ্ব কলোনী, শাপলা আবাসিক এলাকা এবং ফিরোজশাহসহ পার্শ্ববর্তী বিদ্যুৎ অফিসগুলোকে কেন্দ্র করে মোসলেম একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
তার দুর্নীতির প্রধান খাতগুলো হলো: মিটার বাণিজ্য: সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়।
অবৈধ সংযোগ বৈধকরণ: অর্থের বিনিময়ে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবৈধ বিদ্যুৎ লাইনকে দাপ্তরিকভাবে বৈধতা প্রদান। মিটার প্রতিস্থাপন: ত্রুটিপূর্ণ মিটার পরিবর্তনের নামে সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি ও মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বর্তমান অবস্থান স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মোসলেম ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। সেই সময়কার প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের সকল নিয়ম-কানুন নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। সরকার পরিবর্তনের পর কৌশল পরিবর্তন করে বর্তমানে তিনি হাটহাজারী বিদ্যুৎ অফিসে বদলি হয়ে সেখানেও একই সিন্ডিকেট সক্রিয় রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্পদের পাহাড় প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই কর্মকর্তা গত এক দশকে চট্টগ্রাম ও তার আশেপাশে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। তার বৈধ আয়ের উৎসের সাথে অর্জিত সম্পদের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও জনদাবিএই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হবে। সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পিডিবি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। দোষী প্রমাণিত হলে তাকে কঠোর আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন