বিশেষ প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শহীদ রেদোয়ান হাসান সাগরের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি ময়মনসিংহের রাজপথ থেকে। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের ঠিক আগের দিন ৪ আগস্ট নগরীতে সংঘটিত সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত থেকে চরম বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) পরিমল সরকার।
সেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যেখানে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছিল, সেখানে উল্টো তাকে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের এভাবে পুনরায় প্রভাবশালী জায়গায় বসিয়ে প্রশাসন আসলে কার স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে? ময়মনসিংহের পুলিশ প্রশাসন কি এখনো পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্মাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে—এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা:
গত ৪ আগস্ট ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে নির্বিচারে গুলি ও হামলার শিকার হয়ে শহীদ হন রেদোয়ান হাসান সাগর। আন্দোলনকারী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার দিন এসআই পরিমল সরকার তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের দোসর হিসেবে মারমুখী ভূমিকায় উপস্থিত ছিলেন এবং আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। একজন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত ভূমিকার বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সময়েই ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
বিচার না হয়ে উল্টো ডিবিতে ‘পুরস্কার’:
স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনের পর যেখানে পুলিশ প্রশাসনে সংস্কার এনে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার কথা ছিল, সেখানে পরিমল সরকারকে ময়মনসিংহ ডিবিতে পোস্টিং দেওয়াকে ‘প্রকাশ্য পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিকদের মতে, ডিবি পুলিশের মতো একটি সংবেদনশীল ও প্রভাবশালী বিভাগে একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে যুক্ত করা প্রমাণ করে যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভেতরের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখনো পুরোনো বন্দোবস্তে কাজ করছে।
জনমনে ক্ষোভ ও জবাবদিহির দাবি:
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া—হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের ঘটনা শহীদের রক্তের সাথে প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। স্বৈরাচারের দোসরদের প্রশাসনের উচ্চ বা গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসিয়ে কখনোই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। উল্টো এর মাধ্যমে অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
অবিলম্বে এই বিতর্কিত বদলি ও পদায়ন বাতিল করে শহীদ সাগর হত্যাকাণ্ডে এসআই পরিমল সরকারের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ বিভাগীয় ও বিচারিক তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহের ছাত্র-জনতা। একই সাথে জেলা পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন