বিশেষ প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ: বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও, ময়মনসিংহকে ঘিরে এখন উঠছে আরও বড় প্রশ্ন কেন এখানকার অনেক ভূমি অফিসের নায়েবদের সম্পদের পরিমাণ এত অস্বাভাবিক? স্থানীয়দের দাবি, ময়মনসিংহ নগরীতে এমন বহু বহুতল ভবন রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণে ভূমি অফিসের নায়েব ও তাদের ঘনিষ্ঠদের নাম ঘুরে বেড়ায়। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নতুন বাজার মোড়ের গার্ডেন সিটি, যা স্থানীয় মহলে “নায়েবদের বিল্ডিং” নামেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এখানে ময়মনসিংহের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নায়েব ও তাদের পরিবার বসবাস করেন। শুধু গার্ডেন সিটিই নয় ঘুলকি বাড়ি, শংকিপাড়া, কাশর, মেছুয়া বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, প্লট এবং জমির মালিকানার অভিযোগও সামনে আসছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: একজন নায়েবের বেতন কত, আর সম্পদ কত
সরকারি চাকরির নির্ধারিত বেতন দিয়ে যেখানে স্বাভাবিক সংসার চালানোই চ্যালেঞ্জ, সেখানে কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন, জমি এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন কীভাবে সম্ভব এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির নামজারি, খারিজ, মিউটেশন, পর্চা, রেকর্ড সংশোধন, দখল সংক্রান্ত ফাইল দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকারি ফি’র বাইরেও “অফ দ্য রেকর্ড” টাকা লাগে।
স্থানীয়দের ভাষায় : টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না, আর টাকা দিলে রাতারাতি কাজ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল-সিন্ডিকেট, যেখানে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, মধ্যস্বত্বভোগী এবং প্রভাবশালী মহল একসঙ্গে কাজ করছে। এই চক্র সাধারণ মানুষকে জটিলতা, ভয়ভীতি এবং দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে ফেলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, ময়মনসিংহে যদি ভূমি অফিস সংশ্লিষ্টদের সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক লেনদেন, জমি রেজিস্ট্রি ও লাইফস্টাইল খতিয়ে দেখা হয়, তাহলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
এখন জনমনে আরও কিছু প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে
এই বহুতল ভবনের অর্থ কোথা থেকে এলো?
পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের উৎস কী
কার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠছে এই সম্পদের পাহাড়?
প্রশাসন কি দেখেও না দেখার ভান করছে
সচেতন নাগরিকদের মতে, এটি কেবল কয়েকজন নায়েবের বিষয় নয় বরং পুরো ভূমি সেবা ব্যবস্থার গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির লক্ষণ হতে পারে।
তাদের দাবি, (দুদক), এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে Asset Inquiry, Lifestyle Audit এবং পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তদন্ত শুরু করা।
প্রশ্ন এখন একটাই: ময়মনসিংহের ভূমি অফিস কি জনগণের সেবাকেন্দ্র, নাকি দুর্নীতির গোপন স্বর্ণখনি? যদি নিরপেক্ষ তদন্ত হয়, তাহলে বেরিয়ে আসতে পারে এমন সব তথ্য যা শুধু ময়মনসিংহ নয়, পুরো দেশের ভূমি খাতকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন