বিশেষ ক্রাইম রিপোর্টার, ময়মনসিংহ: প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পরও থামেনি রক্তপিপাসা; নিথর দেহটি কবরে যাওয়ার আগেই স্বজনদের ওপর আবারও চালানো হলো বর্বর মানসিক সন্ত্রাস। ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন আকুয়া উত্তরপাড়ায় সাদ্দাম হোসেন (৩৪) হত্যাকাণ্ডের পর এবার আইন ও প্রশাসনকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে মামলার পলাতক আসামিরা। মর্গ থেকে মরদেহ বাড়িতে এনে যখন দাফনের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে নিহতের পরিবারকে ফের হত্যার হুমকি দিয়েছে মামলার ৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বি হোসেন। একজন হত্যা মামলার দাগি আসামির এমন বেপরোয়া ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে পুরো নগরী জুড়ে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে, আর আকুয়াবাসীর মাঝে ভর করেছে চরম আতঙ্ক।
ঘটনার এজাহার সূত্রে প্রকাশ, পূর্ববিরোধ ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ৬ অক্টোবর দুপুরে আকুয়া উত্তরপাড়ার একটি বাসায় সাদ্দাম হোসেনকে ডেকে নিয়ে রামদা, ছুরি ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মা আছমা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় ৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ু৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা (মামলা নং-৩৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ১ নম্বর আসামি মোঃ অন্তর মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও বাকি আসামিরা গা-ঢাকা দেয়।
তবে গা-ঢাকা দিলেও তাদের ঔদ্ধত্য কমেনি বিন্দুমাত্র। স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসপাতাল মর্গ থেকে সাদ্দামের লাশ যখন দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই সানকিপাড়া এলাকার মৃত রাজ্জাক মিয়ার ছেলে ও মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি রাব্বি হোসেন সরাসরি ফেসবুক লাইভে আসে। লাইভে এসে সে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো অনুশোচনা প্রকাশ না করে উল্টো দাম্ভিক ভাষায় নিহতের ভাই, স্ত্রী ও পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম ধরে ধরে একে একে কেটে ফেলার ও প্রাণনাশের প্রকাশ্য হুমকি দেয়।
ঘরে যুবকের রক্তমাখা লাশ, বাইরে পলাতক আসামির ফেসবুক লাইভে এমন ভয়াল হুংকার—মুহূর্তেই পরিস্থিতিকে বিষাক্ত ও থমথমে করে তোলে। নিহতের শোকাহত স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে জানান, “প্রকাশ্যে আমার ছেলেকে কুপিয়ে মারল, লাশটা এখনো কবরে নামাতে পারিনি, অথচ খুনিরা বুক ফুলিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে! আমরা কি কোনো আইনের দেশে বাস করছি না?” পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পলাতক আসামির এমন বেপরোয়া আস্ফালনে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, অবিলম্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে অপরাধীদের সাহস আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুক লাইভে হুমকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সেই ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে সাইবার ইউনিটের সহায়তায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও হুমকিকারী পলাতক রাব্বিসহ সকল আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম চিরুনি অভিযানে নেমেছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।