রাজধানীর খিলক্ষেতে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত সময়ে পুলিশ বাহিনীতে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল, তা অনেকাংশে গুছিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।আইজিপি জানান, ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পুলিশ সপ্তাহ যথাযথভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন সরকারের আমলে নতুন আঙ্গিকে পুলিশ সপ্তাহ উদ্যাপন করা হবে।
তিনি বলেন, পুলিশ সপ্তাহ পুলিশ বাহিনীকে আরও সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব করে তুলবে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় আমরা নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশিত পুলিশ গড়ে তুলতে কাজ করছি।
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, বর্তমান পুলিশের পোশাকে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলছে এবং পুলিশের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতেও সরকার আন্তরিক।
তিনি বলেন, আগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হতো। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে।আবাসন ও জনবল সংকটের বিষয় তুলে ধরে আইজিপি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত থাকলেও আবাসন সুবিধা রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫ হাজার সদস্যের জন্য। নতুন নিয়োগ ও অবসরজনিত কারণে এই সংকট আরও বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সরকার এ বিষয়ে অবগত এবং আগামী অর্থবছরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। খিলক্ষেত ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন আইজিপি।
তিনি বলেন, এতে অপরাধ সংঘটনের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে এবং জরুরি ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।তিনি আরও বলেন, আমরা আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মন্তব্য করুন