মিল্লাল হোসেন মানিক, বিশেষ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের একসময়কার রোলার ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্বল্প বেতনের চাকরি থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগ ঘিরে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, গুঞ্জন ও বিতর্ক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণি পাস সনদে প্রায় ১৮ হাজার টাকা বেতনে সিটি কর্পোরেশনে চাকরি শুরু করেন সিরাজ। তার দায়িত্ব ছিল রোলার ড্রাইভার হিসেবে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের ভেতরে তার প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে।
ড্রাইভার থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি: সিটি কর্পোরেশনের একাধিক সূত্র জানায়, সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিরাজ। তাকে প্রায়ই মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারীর মতো কাজ করতে দেখা যেত। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে যাতায়াত এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় তার উপস্থিতি অনেকের নজরে আসে। একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ড্রাইভার হয়েও তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত ছিলেন। অনেকেই তার মাধ্যমে কাজ করাতে চাইতেন।”
সম্পদের পাহাড়—উৎস কোথায়? স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। যদিও এ তথ্যের কোনো সরকারি নিশ্চয়তা নেই, তবে তার নামে ও ঘনিষ্ঠদের নামে বিভিন্ন জায়গায় জমি ও সম্পত্তি থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাগরের কাছ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ জমি কেনার তথ্য। এছাড়া শম্ভুগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার আশপাশেও একাধিক প্লট ও জমির মালিকানার অভিযোগ রয়েছে।
জনমনে প্রশ্ন: একজন স্বল্প আয়ের কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। অনেকেই মনে করছেন, ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলা হয়ে থাকতে পারে।সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া: সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বড় প্রশ্ন। একজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষায়, “যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি বড় ধরনের দুর্নীতি। দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত।
তদন্তের দাবি: এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা। অভিযুক্তের বক্তব্য মেলেনি: অভিযোগের বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম সিরাজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মন্তব্য করুন