একে এম রুহুল আমিন স্বপন: সিলেট মহানগরীতে কিশোর গ্যাং নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম।
তিনি বলেন, কিশোর অপরাধ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সব জায়গায় নজরদারি ও মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করতে হবে। এই সমন্বিত প্রয়াসের ফলেই সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, তরুণদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, স্কুল-কলেজভিত্তিক কাউন্সেলিং, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এতে করে তরুণরা তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে এবং সমাজে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “তরুণরা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে তারা জাতির উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারবে। আমরা চাই, তারা অপরাধ নয়, সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাং দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা ছড়াতে না পারে। এছাড়া অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব এবং অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজরদারি রাখার জন্য তাদের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সিলেটকে কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। পুলিশ কমিশনারও এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন