নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের এক গ্রামের সাধারণ মানুষ, রমজান মোল্লা। বয়স ষাট। দিন কাটতো ছোটখাটো কাজে, পরিবারের সাথে হাসি-গল্পে। এক মাস ধরে পেটের ডানদিকে হালকা ব্যথা, একটা ছোট ফোলা এটুকু নিয়ে গেলেন কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভাবলেন, ডাক্তাররা দেখে দেবেন, ঔষধ দিয়ে সারিয়ে দেবেন। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করছিল একটা নির্মম ফাঁদ।

আন্তর্জাতিক নিয়ম বলে ৫০+ বয়সে এমন লাম্প হলে Contrast CT করতেই হবে। কিন্তু অধ্যাপক ডা. তৌফিকুল হক সেটা বাদ দিয়ে USG আর কলোনোস্কোপি করলেন। তারপর মির্জা প্যাথলজির রিপোর্টে বড় বড় অক্ষরে “ক্যান্সার। পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। ডাক্তার বললেন “তাড়াতাড়ি অপারেশন করো, না হলে ছড়িয়ে যাবে।” তিন লাখ টাকা দিয়ে রমজানের সুস্থ অন্ত্র কেটে নিলেন৩৮ সেমি। সিকাম, অ্যাসেন্ডিং কোলন, টার্মিনাল ইলিয়াম সব গেল।

কিন্তু ১০ আগস্টের ফাইনাল রিপোর্ট এল: কোনো ক্যান্সার নেই। শুধু প্রদাহ। রমজান তখন সেপসিসে ভুগছেন শরীর জ্বলে যাচ্ছে, CRP ১৯০, WBC ২১ হাজার। “Improving” বলে ছেড়ে দিলেন হাসপাতাল থেকে। পরিবার কাঁদতে কাঁদতে স্কয়ারে নিয়ে গেল আরও লাখ লাখ খরচ, লিটার পুঁজ বের করা হলো। মোট খরচ ১১ লাখের বেশি। ওজন কমেছে ৩৫ কেজি। আজ সে আর হাঁটতে পারে না। দিনে ১৫ বার পায়খানা, হাত-পা ঝিনঝিন করে, স্মৃতি ঝাপসা। পরিবার বলছে আমাদের সব শেষ। এখন কী করে বাঁচবো?

এটা শুধু ভুল নয় এটা একটা পরিকল্পিত অপরাধ। সুস্থ অঙ্গ চুরি করে জীবন নষ্ট করা।
ডাক্তারদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
• অধ্যাপক ডা. তৌফিকুল হক: BMDC-তে লাইসেন্স বাতিল, Penal Code ৩০৪A (অবহেলায় জীবন বিপন্ন ২ বছর জেল) + ৩৩৮ (গুরুতর আঘাত ২-১০ বছর জেল)।
• অধ্যাপক ডা. মির্জা হামিদুল হক: ভুয়া রিপোর্টের জন্য Penal Code ৪২০ (প্রতারণা ৭ বছর জেল) + BMDC কোড ৫.৩।
• অধ্যাপক ডা. চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ: প্রোটোকল ভাঙার জন্য BMDC সাসপেন্ড।

ক্ষতিপূরণ দাবি: জীবনমানের ক্ষতি।
আগামী দিন: মির্জা প্যাথলজির রহস্য কীভাবে ‘ক্যান্সার’ উধাও হয়ে গেল?
মন্তব্য করুন