দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর নুর ইসলাম বাদী মামলা দায়ের করেছেন। মংগলবার (৫ মে) দুপুরে মামলার প্রতিবেদন সহ তথ্য নিশ্চিত করেন ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। মামলা সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে পৌর শহরের তেরীবাজার এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল চলাকালীন সময়ে শহরের উকিলপাড়া এলাকার ভাই ভাই এন্ড জনতা হোটেলে কয়েক জন ব্যক্তি উশৃঙ্খল আচরণ করে হোটেল বন্ধের হুমকি দিচ্ছে। পরবর্তিতে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তিতে হোটেল মালিক খোকন মিয়াকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, উক্ত আসামীগণ পরিকল্পিত ভাবে দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে হোটেলে এসে প্রায় দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং প্রতিদিন খাবার খেয়ে বিল পরিশোধ না করে চলে যায়। আসামীরা হলেন, যে, ১। মেহেদী হাসান ওরফে সাহস (৩০), পিতা- মঞ্জুরুল হক, ২। ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২২), পিতা- ইউছুফ হাওলাদার, ৩। মোঃ জুয়েল (৩৪), পিতা- ছোট আবু, ৪। রাসেল (৩০), পিতা- হাসু মিয়া, ৫। নাইম (৩০), পিতা- অজ্ঞাত, ৬। মিলন (৩৮) পিতা- মৃতঃ আব্দুল মজিদ, ৭। মেহেদী (২৮), পিতা-অজ্ঞাত, ৮। রিসভী (২৭), পিতা- অজ্ঞাত সহ আরো ৭/৮ জন।
এ সময় হোটেল থেকে চাঁদাবাজরা যাওয়ার সময়, হোটেল ম্যানেজার কে খুন জখমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। উক্ত সময়ে হোটেল মালিক রান্না ঘরে হতে বের হয়ে এসে বিল না দেওয়ার কারণ ও পূর্বের পাওনা প্রায় এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে বললে আসামীরা দলবদ্ধ হয়ে হোটেল মালিক এর উপর উত্তেজিত হয়ে চাঁদা দিয়ে হোটেল চালাইতে হবে, আবার যদি পূর্বের বকেয়া টাকা চাইলে হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকী দিয়ে চলে যায়। আসামীদের ভয়ে তিনি দুই দিন হোটেল বন্ধ রাখেন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজী, চোরাচালান ও বাল্যবিয়ে নিয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আসামী যত বড় শক্তিশালী হউক না কেনো, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্গাপুর কে শান্ত রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সকলকে সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন