ময়মনসিংহ অফিস: ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সফল অভিযানে ভালুকা মডেল থানা এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত দস্যুতার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। অভিযানে ঘটনায় জড়িত মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত ৪২৪টি লিড এসিড ব্যাটারী, দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি পিক-আপ ভ্যান এবং ব্যাটারী বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা ১২ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত জিএজ ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড থেকে মেসার্স এম এ ভূইয়া ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে একটি পিক-আপ ভ্যানে করে ৪৬০টি লিড এসিড ব্যাটারী (মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা) ময়মনসিংহের ফুলপুর বাজারে পাঠানো হয়। চালান বহনকারী পিক-আপটি চালাচ্ছিল কথিত ড্রাইভার লোকমান ওরফে সাগর ওরফে মিনহাজ (২৮)। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পুষ্প কানন ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে ড্রাইভার ও তার সহযোগীরা ডেলিভারিম্যান রুবেল হাওলাদারকে মারধর করে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। পরে তারা ব্যাটারী ও অন্যান্য মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গত ২৯ জানুয়ারি রাতে ঢাকা খিলক্ষেত এলাকা থেকে মূল আসামি লোকমান ওরফে সাগর ওরফে মিনহাজকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে ৩০ জানুয়ারি গাজীপুর থেকে অপর আসামি মোহাম্মদ আলী (৩৮) গ্রেফতার হন।
পরবর্তীতে আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে লুণ্ঠনের কাজে ব্যবহৃত পিক-আপ ভ্যান, ২০৩ কার্টুনে রাখা ৪২৪টি ব্যাটারী (মূল্য প্রায় ২৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় দস্যুতার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি লোকমানের বিরুদ্ধে পূর্বে ৯টি মামলা রয়েছে।ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।
মন্তব্য করুন