ফারজানা আক্তার কলি,ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের সম্বোগঞ্জ এলাকায় গোয়েন্দা অভিযানের নামে ভারতীয় নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করে পরে অর্থের বিনিময়ে পাচারকারীকে ছেড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল জামায়ের চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে ২১ ফিজ ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হলেও পরে ৫ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে কম্বলসহ অভিযুক্ত পাচারকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন গোয়েন্দা সংস্থার এসআই যুবরাজ, তার সঙ্গে ছিলেন কনস্টেবল সাদ্দামসহ একটি প্রশাসনিক দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে আটক ব্যক্তি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার চিহ্নিত সীমান্ত পাচারকারী বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তিনি ময়মনসিংহ হয়ে ভারতীয় কম্বল পাচারের সময় ধরা পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের শুরুতে প্রশাসনিক নথিতে ২৫টি কম্বল আটক দেখানো হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে সেই সংখ্যা কমে যায় এবং পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, জব্দের পরপরই অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সব মালামাল ও পাচারকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ময়মনসিংহ জেলার উত্তর ও দক্ষিণ গোয়েন্দা শাখায় দীর্ঘদিন ধরে ওসি পদ শূন্য থাকায়, সেই সুযোগে এসআই যুবরাজ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সীমান্ত পাচার দমনের পরিবর্তে এই সিন্ডিকেট পাচারকারীদের জন্য নিরাপদ করিডোর হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু পাচার কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছে না, বরং গোয়েন্দা সংস্থার পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত, জব্দকৃত মালামালের প্রকৃত হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ এবং অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন